1. admin@gonopotrika.com : admin :
বুধবার, ১৯ জুন ২০২৪, ০২:১৬ অপরাহ্ন

এক ফোঁটা লাল ভালোবাসার স্বপ্ন

  • প্রকাশের সময় : বুধবার, ১৪ ফেব্রুয়ারি, ২০২৪
  • ১৫২ বার পঠিত

 

লেখকঃ ফেরদৌস মোল্লাহ্

অচিন পুরের ছোট একটি গ্রামে বসবাস করতো নিজুম। পরিবারের ভাই বোনের মধ্যে নিজুম সবার চেয়ে ছোট।তাই সে সব সময় বাবা মা ভাই বোনের আদর একটু বেশিই পেয়েছে। নিজুম দেখতেও অনেক সুন্দরী ও শান্ত প্রকৃতির ছিলো। নিজুম SSC. HSC.লেখাপড়া শেষ করে মহিলা কলেজে রাষ্ট্র বিজ্ঞানে ভর্তি হয়। নিজুম সুন্দরী থাকার কারণে তাকে অনেক ছেলরাই পছন্দ করতো, নিজুম এগুলো এরিয়েই চলতো, এগুলো কিছু মনে করতোনা কারণ সেতো সুন্দরী আর সুন্দরীর পিছনে তো ছেলেরা ঘুরবেই। নিজুম যখন অনার্স ২য় বর্ষে পরিক্ষা দিলো। পরিক্ষা শেষে নিজুম নিজে কিছু করার জন্য শহরে চলে যায়। শহরে গিয়ে এম এস এয়ারলাইনসে একটি চাকরি পায়। নিজুম সুন্দরী থাকার কারণে রিসিপশনে জপটা পেয়ে যায়। সেখানে তার ভালোই দিন কাটছিলো।

নিজুম অল্প দিনের মধ্যেই সকলের মন জয় করে নিয়েছিলো। অফিসের সকলেই তাকে স্নেহ করতো। ওই অফিসেই একটা ছেলে ছিলো সজিব নামের, তার পোস্ট ছিলো অফিস ইনচার্জ। সজিব নিজুমকে প্রথম যেদিন দেখছে সে দিন থেকেই তাকে পছন্দ করে ফেলছে। পরবর্তীতে ভিন্ন কারণে তার আসে পাশে ঘুরতো কিন্তু নিজুমকে বুঝতে দিতো না। নিজুমও এগুলো খেয়াল করতোনা। ১৫ই ডিসেম্বর সজিব এসে বলে ম্যাডাম আগামী কাল বস আসবে অফিসে তাই একটু আরলী আসবেন, আর হ্যা একটা শাড়ি পরে আসবেন মনে করে। আসলে ১৬ই ডিসেম্বর ছিলো বন্ধের দিন এটা নিজুমেরও মনে ছিলোনা। নিজুম সকাল সকাল ঘুম থেকে উঠে একটা সবুজ রংএর একটা শাড়ি পরে খুব সুন্দর মতো সাজুগুজু করে অফিসে রহনা দিলো কিছুক্ষণ পরে সজিব ফোন দিলো ম্যাডাম কতখন লাগবে? নিজুম বলে স্যার এই দশ মিমিরের মতো, আমি রিকশায় আছি পরে ফোনটা কেটে দিলো।নিজুম অফিসে এসে অফিস খুললো এবং সবুজও অফিসে প্রবেশ করলো।

সবুজের হাতে একটা ব্যাগ দেখে প্রশ্ন করলো হাতে কী স্যার? সবুজ বললো একটা গিফট বলে সবুজ তার ডেস্কে চলে যাবার সময় নিজুমকে বললো ম্যাডাম আজকে আপনাকে পুরা নাইকার মতো লাগে! নিজুম একটু মুচকি হাসলো এবং রিসিপশনের ডেস্কে বসে গেলো। ডেস্কে বসে সজিবকে বলে স্যার আর সবাই কোথায় তাদেরতো দেখিনা? সজিব তখন তার ডেস্ক থেকে এসে নিজুমের হাতে একমুটো ফুলের তোরা দিয়ে তার দিকে চেয়ে আছে। নিজুমও কিছু বুঝছে না তার দিকে চেয়ে আছে।সজিব কিছু না বলে তার ডেস্কে চলে গেলো।নিজুম সে ফুল গুলো দেখতে আছে একনজরে। হটাৎ পয়ের আওয়াজ শুনে সামনের দিকে তাকালো দেখে মেডিকেল স্যার আসতে আছে। নিজুম তার হাতের ফুল গুলো দ্রুত তার ব্যাগে লুকিয়ে রাখলো। মেডিকেল স্যার এসে বলে নিজুম আজকে তো বন্ধ তুমি যানো না আজ আসছো কেনো? তখন নিজুম বলে সজিব স্যারে নাকি কী জরুরী কাজ আছে তাই আসতে বললো এর মধ্যে সজিব বের হয়ে বলে স্যার অফিসে আমার একটা দরকারী কাগজ ছিলো তার জন্য আসতে বলছি, মেডিকেল স্যার বলে ওটাতো আগামী কাল ও করতে পরতা শুধু শুধু মেয়েটাকে কষ্ট দিলা। তার পরবলে নিজুম হটাৎ তুমি শাড়ি পরলা কোথাও বেড়াতে যাও নাকি, নিজুম তখন মিথ্যা বলে হ্যা স্যার আমার বোনের বাসায় যাবো। এর পারে অফিস বন্ধ করে তারা চলে গেলো।

কয়েক মাস চলে গেলো সজিব এখনও তাকে যে ভালোবাসে বলতে পারে নায়, এর মধ্যে নিজুম কম্পিউটার অপারেটর হয়েছে। পরে অফিস থেকে ফেরার পথে নিজুমকে বলে ম্যাডাম আমি আপনাকে পছন্দ করি। নিজুম কিছু না বলে চলে গেলো। এর পরথেকে তাদের মাঝে ফোনে কথা হতো অফিসে দেখা হতো। হাটৎ নিজুম একদিন বিশেষ কারণে বাড়িতে চলে আসলো দুইদিন থাকার পরে অফিস থেকে ফোন আসলো যে ম্যাডাম আপনাকে আজকে বিকাল ৩:৩০ মিনিটের মধ্যে অফিসে থাকতে হবে বস আসবে অডিটে। নিজুম অল্প সময়ের মধ্যে যেতে পারবে না তাই আর যাওয়া হয় নায়। পরবর্তীতে তার পরিবর্তে অন্য একজনকে নিয়ে নিয়েছে।

কিছু মাস পর সজিবও জবটা ছেড়ে দেয়, এদিকে নিজুমের নানির জন্য A+ ব্লাড প্রয়োজন তাই খোঁজ করছে, একজন সেনাবাহিনী সে তার নানিকে ব্লাড ডোনেট করেছে, সেই সুবাদে নিজুম তার খোঁজ নিবার জন্য তার নাম্বার টা রেখে দেয়। পরে তাকে ফোন দেয় এবং জিজ্ঞেস করে আপনার শরীর কেমন কোন সমস্যা আছে কী না ইত্যাদি তখন সেনাবাহিনীর বলে আপু আপনার নাম কী? নিজুম বলে আমার নাম নিজুম, আপনার নাম কী? সে বলে আমার নাম তরিকুল ইসলাম, তবে আপনি আমাকে তরিক বলতে পারেন। তরিক মাঝে মাঝে তাকে ফোন দিতো, কথা হতো মাঝে মাঝে। হাটাৎ নিজুম সিমটা বন্ধ করে দিলো প্রায় তিন মাসের মতো।বসন্তের প্রথম দিন নিজুম সিমটা ওপেন করলো।সাথে সাথেই তরিকের কল আসে, ফোনটা রিসিভ করার সাথে সাথে ফোনটা এতো দিন বন্ধ কেনো ছিলো।জানেন আমার কতো চিন্তা হয়েছে। নিজুম কেনো? তরিক বলে নিজুম আমি আপনাকে ভালোবাসি I Love you♥️ নিজুম চুপ করে আছে তারিক আবারও বলে আমি তোমাকে ভালোবাসি। নিজুম বলে ভেবে দেখবো বলে ফোনটা কেটে দেয়।

কিছু সময় যাবার পরে সজিবের ফোন আসে ফোনটা রিসিভ করে পরে সজিব বলে নিজুম তোমাকে বসন্তের শুভেচ্ছা, নিজুম ধন্যবাদ, সজিব এতোদিন ফোন বন্ধ কেনো ছিলো? নিজুম এমনি আমার ভালোলাগেনা তাই, পরে কথা বলে ফোনটা কেটে দেয়। তরিক আবার পরের দিন ফোন করে কথা হয় পরে নিজুমকে দেখা করার কথা বলে, নিজুম রাজি হয়। ২১শে ফেব্রুয়ারী বিভাগীয় শহরে গিয়ে তাদের দেখা হবে, নিজুম শহরে গিয়ে নদীর ধারে একটি গাছের নিচে বসে আছে। রকিব একগোছা ফুল নিয়ে এসে নিজুমের পাশে বসে। রকিবুল ইসলাম তাকে ফুল দিয়ে প্রথম প্রপোজ করে-I Love You. নিজুম ফুলটা নিয়ে বলে I Love You2. এর পরে দুইজনে হাত ধরে কোমল হাওয়ায় নদীর স্নিগ দোতা উপভোগ করে রেস্টুরেন্টে খাওয়া দাওয়া করে নিজুমকে বাসে উঠিয়ে দিয়ে রকিব চলে যায়।

এদিকে নিজুমের পরিবারের কাছেও অনেক সম্বন্ধ আসে, তারাও ছেলে দেখে। নিজুম তার পরিবারকে নিষেধ করে বলে তার সমনে পরিক্ষা এখন বিয়ে নিয়ে সে চিন্তা করতে পারছে না। সজিব এর মধ্যে বিদেশে চলে গিয়েছে। নিজুম সজিবকে ভালো না বাসলেও ভালো একটা বন্ধুর মতো মনে করে, তবে সজিব তাকে অনেক ভালোবাসে, মাঝে মাঝে নিজুমের জন্য গিফট পাঠায়। এদিকে রকিবুলের সাথেও কথা হচ্ছে, সে তার পরিবারে কাছেও নিজুমের সম্পর্কে বলছে, তারাও নিজুমকে পছন্দ করছে। এদিকে সজিব এর পরিবারও নিজুম কে পছন্দ করছে। নিজুম মহা বিপদে পরে গেলো কী করবে সে কিছু বুঝে উঠতে পারে না……..(পর্ব-১)

Facebook Comments Box
এ জাতীয় আরও খবর
© স্বত্ব সংরক্ষিত © ২০২৩ গণ পত্রিকা
Theme Customized By Shakil IT Park